আলীকদম ছাত্রলীগের লাগাম টানবে কে ?

কিছুদিন পর পর আলোচনায় আসছে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা ছাত্রলীগ। ফেসবুকে কমিটি বাতিল, অছাত্রদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠন, স্থানীয় নেতাদের ভূমি দখল, পাথর উত্তোলন,কাঠ পাচারসহ বিভিন্ন অনৈতিক ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িত হওয়া,পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী দিয়ে পরস্পর বিরোধী নিজের অবস্থান জানিয়ে বেসামাল যেন আলীকদম উপজেলা ছাত্রলীগ।

একের পর এক বিতর্কিত কর্মকান্ডের ফলে ছাত্রলীগের ক্লিন ইমেজের নেতাকর্মী তথা সাধারণ ছাত্রদের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এর লাগাম টানবে কে? আর এনিয়ে এস বাসু দাশ ও জয়দেব রাজ এর প্রতিবেদন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে অন্ত:কোন্দলের কারনে আলীকদমে বিলুপ্ত ইউনিয়ন ছাত্রলীগ ও উপজেলা ছাত্রলীগের মুখোমুখি অবস্থান দাড়ায়। বিলুপ্তকৃত সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ কফিল উদ্দিন ও ৩নং নয়াপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সুইহ্লা মার্মার নেতৃত্বে প্রায় ৫০/৬০ জন নেতাকর্মীদের নিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে মিছিল ও মানববন্ধন করার জন্য চৌমুহুনী হতে বাজারের উদ্দেশ্য অগ্রসর হয়। অন্যদিকে তাদের প্রতিহত করতে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সৌরভ পাল ডালিম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোহেলের নেতৃত্বে ১৫/২০ জন উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বাজারের কৃষি ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেয়।

আরো জানা গেছে,বিলুপ্ত কমিটির নেতাকর্মীরা আলীকদম পুরাতন ক্যান্টিন মোড়ে পৌছালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দুংড়িমং মার্মা,উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সমরঞ্জন বড়ুয়া ও সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাছির উদ্দীন কফিল উদ্দিন ও সুইহ্লা মার্মাকে তাদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা বসার আশ্বাস দেন এবং সামনে না যেতে নির্দেশ দেন। এদিকে উভয় পক্ষের সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ আলীকদম প্রেসক্লাবে সামনে শক্ত অবস্থান নেয়।

এবিষয়ে বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি মোঃ কফিল উদ্দিন বলেন,মেয়াদ উত্তীর্ণ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উস্কানিমূলক কথাবার্তা ও সংগঠনের গঠনতন্ত্র বিরোধী সিন্ধান্তের প্রতিবাদে মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করার সিন্ধান্ত হয়।

তিনি আরও বলেন,তাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ,একজন ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ কখনো কাম্য নয় । পুলিশ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাবৃন্দ আমরা মিছিল সহকারে ক্যান্টিনের সামনে পৌছালে এবং সামনে এগোতে চাইলে বাধা দেন ও পরে উপজেলা আওয়ামী লীগ সবাইকে নিয়ে বসার আশ্বাস দিলে আমরা সেখান থেকে চলে আসি।

বিলুপ্ত নয়াপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সুইহ্লা মার্মা বলেন,উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অবৈধ ভূমি দখল,গাছ চুরিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। তারা প্রায় কথায় কথায় বিভিন্ন ব্যক্তির ক্ষমতা প্রদর্শন করেন। আমরা নেতৃবৃন্দের কাছে এর যথাযথ বিহিত ও তাদের অনৈতিক কাজের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এবিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সৌরভ পাল ডালিম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোহেলকে বেশ কয়েকবার ফোনে যোগাযোগ করতে ফোন করা হলেও তারা কল রিসিভ করেনি। পরে মোঃ সোহেলের সাথে প্রতিবেদক সরাসরি কথা বলতে চাইলে, তিনি ব্যস্ত আছেন,পরে কথা বলবেন বলে জানান।

বান্দরবান জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও জেলা কর্তৃক উপজেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতা মোস্তফা জামান রাশেদ জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অবগত হয়েছেন এবং অচিরেই বিরাজমান সমস্যা সমাধান করা হবে বলে জানান।

তিনি আরও জানান,ইতিমধ্যে উপজেলা ছাত্রলীগকে সম্মেলনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আলীকদম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাথে জেলা ছাত্রলীগ আলোচনা করে অতিদ্রুত উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করা হবে বলে জানান।

এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দুংড়িমং মার্মা বলেন,উপজেলা ছাত্রলীগ ও বিলুপ্ত দুই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মুখোমুখি অবস্থান ও সংঘর্ষের সম্ভাবনা ছিল। শান্তি পূর্ণ ভাবে উভয়পক্ষে বুঝিয়ে নিরসনের চেষ্টা করছি।

তিনি আরো বলেন, উপজেলা ছাত্রলীগ ও বিলুপ্ত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাথে বসব, খুব দ্রুত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সমস্যাটি সাংগঠনিক ভাবে উপজেলা আওয়ামী লীগ সমাধানের চেষ্টা করবে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।