বান্দরবানের রেইচা-গোয়ালিয়া খোলা সাংগু নদীর উপর ব্রিজ

পাল্টে গেছে জীবনমান

দীর্ঘদিনের দু:খ লাঘব হলো সাধারণ জনগণের। বান্দরবানের রেইচা-গোয়ালিয়াখোলা এলাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বান্দরবানের বাস্তবায়নে সাংগু নদীর উপর গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের ফলে পরিবর্তন হয়েছে অর্থনৈতিক অবস্থার,ভোগান্তী কমেছে স্থানীয়দের। এই ব্রীজ নির্মাণের ফলে বান্দরবান,কক্সবাজার,চট্টগ্রাম আর রাঙ্গামাটির সড়ক পথের দূরত্ব কমার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হলো।

সরেজমিনে দেখা যায়,বান্দরবান সদরের রেইচা ইউনিয়নের গোয়ালিয়া খোলার সাংগু নদীর ওপর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বান্দরবানের বাস্তবায়নে প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২২০ মিটার গার্ডার ব্রিজের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিগত সময়গুলোতে সাংগু নদীর দুপাড়ের বাসিন্দারা নৌকা যোগে পারাপার হলে ও বর্ষাকালে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতো, আর ব্রিজ নির্মাণের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমুল উন্নয়নে খুশি এলাকার মানুষ।

তাছাড়া বান্দরবান,কক্সবাজার,চট্টগ্রাম আর রাঙ্গামাটির সড়ক পথের দূরত্ব কমার পাশাপাশি পর্যটনপ্রেমীদের কাছে এই এলাকা এখন হয়ে ওঠেছে আকর্ষনীয় পর্যটনস্পট। বান্দরবান এসে অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে এই ব্রিজ ভ্রমনের সাথে সাথে উপভোগ করছে প্রকৃতি আর সাংগু নদীর অপরুপ সৌন্দর্য্য।

গোয়ালিয়াখেলার বাসিন্দা সৈকত বড়ুয়া বলেন, একসময় নদীতে পানি বেশি থাকায় অনেক সময় নৌকা উল্টে অনেক ছাত্র-ছাত্রী আহত হওয়ায় মত ঘটনা ও ঘটেছে, তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার আর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপির উদারতায় আমাদের এলাকায় একটি ব্রিজ হয়েছে, আর এতে সাধারণ জনসাধারণ উপকৃত হয়েছে।

চেমীমুখ এলাকার বাসিন্দা মো:শাহেদ বলেন, এই ব্রিজ আমাদের তিন জেলাকে কাছে নিয়ে এসেছে। এই ব্রিজ দিয়ে সহজেই বান্দরবান, চট্টগ্রাম এবং রাঙ্গামাটি কম সময়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

চেমীমুখ এলাকার বাসিন্দা মো:শাহেদ আরো বলেন, সাংগু নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণের ফলে এই এলাকার অর্থনীতির অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে এবং এলাকার উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও শাকসবজি সহজেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা সহজ হয়েছে।

গোয়ালিয়াখেলার বাসিন্দা মো:জুয়েল বলেন, ব্রিজ হওয়ার আগে এখানে তেমন যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো ছিল না, দেখা যেত না মোটর সাইকেল, টেক্সি ও বড়ধরণের কোন যানবাহন তবে ব্রিজ নির্মাণের ফলে এখন দিনরাত আমরা যানবাহনের সুবিধা পাচ্ছি এবং যেকোন সময় যেকোনস্থানে ছুটে যেতে পারছি।

ব্রিজ না হওয়ায় আগে নৌকা দিয়ে এপার ওপার যেতে হতো আর বর্ষাকালে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পার হতে গিয়ে ছোট বড় দুর্ঘটনায় পড়তে হতো সাধারণ পথচারীেেদর, শুধু তাই নয় বর্ষাকালে সাংগু নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে দুপাড়ের সাধারণ যাত্রীদের পড়তে হতো নানা বিড়ম্বনায়। সাধারণ জনগণের চাহিদার প্রেক্ষিতে বান্দরবানের রেইচা-গোয়ালিয়াখোলা ও চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ইউনিয়ন এবং বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের ক্যামলং এলাকার মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করার লক্ষে ২০১৬ সালের ১২ই মে ব্রিজটির ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। আর এই ব্রিজ নির্মাণের ফলে সাংগু নদীর দুপাড়ের প্রায় ৫ হাজার পরিবারের যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়নসহ কৃষি পণ্য আমদানি-রপ্তানি এবং বর্ষা মৌসুমে যাতায়াত সহজতর হয়ে ওঠেছে।

আগামীতে ব্রিজর পাশাপাশি সড়কগুলো আরো আকর্ষনীয় ও মনোমুগ্ধকরভাবে নির্মাণ করার কথা জানান নির্বাহী প্রকৌশলী। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুস সাদাত মো: জিললুর রহমান বলেন, এলজিইডি’র বাস্তবায়নে প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা ব্যায়ে বান্দরবানের রেইচা এলাকার গোয়ালিখোলা এলাকায় ২২০ মিটার গার্ডার ব্রিজের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং এই ব্রিজটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি আরো বলেন, এলজিইডি এই ব্রিজের পাশাপাশি উভয় পাশ্বের সড়কগুলো আরো আধুনিক মানের করে নির্মাণ করার কাজ অব্যাহত রেখেছে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।