ওস্তাদ মোহনলাল দাশ স্মৃতি সংসদের আয়োজনে অংশ নিলেন ৪ শতাধিক প্রতিযোগী
সুরের মূর্ছনা, নৃত্যের ছন্দ, আবৃত্তির শব্দমাধুর্য আর রঙ-তুলির নান্দনিকতায় মুখর হয়ে উঠেছিল চন্দ্রঘোনা। শিল্প-সংস্কৃতির সেই বর্ণিল আয়োজনে কণ্ঠে গান, হাতে বাদ্যযন্ত্র, পায়ে নৃত্যের ছন্দ আর ক্যানভাসে রঙের খেলায় নিজেদের প্রতিভা মেলে ধরেন চার শতাধিক প্রতিযোগী।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীত গুরু ওস্তাদ মোহনলাল দাশের স্মৃতিকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রামের নন্দিত সাংস্কৃতিক সংগঠন ওস্তাদ মোহনলাল দাশ স্মৃতি সংসদের আয়োজনে আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা দ্যা রাইজিং সান কেজি অ্যান্ড হাই স্কুলে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা-২০২৬।
সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় কাপ্তাই, রাঙ্গুনিয়া ও রাজস্থলী উপজেলার চার শতাধিক প্রতিযোগী কণ্ঠসংগীত, যন্ত্রসংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন বিষয়ে অংশ নেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠানস্থলে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
এর আগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। কাপ্তাই শিলছড়ি ৩৫ আনসার ব্যাটালিয়নের পরিচালক সঞ্চয় কুমার সাহা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সঞ্চয় কুমার সাহা বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই যথেষ্ট নয়; লেখাপড়ার পাশাপাশি সাহিত্য, সংস্কৃতি, সংগীত ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের চর্চাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংস্কৃতিক চর্চা একজন শিক্ষার্থীর চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা ও নৈতিক মূল্যবোধকে সমৃদ্ধ করে। তাই নতুন প্রজন্মকে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দিতে এ ধরনের আয়োজন আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শিল্প-সংস্কৃতি মানুষের মনকে আলোকিত করে এবং সমাজে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করে। ওস্তাদ মোহনলাল দাশের মতো গুণী শিল্পীর স্মৃতিকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সংগীত ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করার এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এ ধরনের প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক প্রতিভাবান শিক্ষার্থী নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ পাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ওস্তাদ মোহনলাল দাশ স্মৃতি সংসদের সভাপতি ও দেশের প্রখ্যাত কবি ও সঙ্গীত বিশারদ ওস্তাদ স্বপন কুমার দাশের সভাপতিত্বে এবং কাপ্তাই প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ঝুলন দত্তের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ইলিয়াস তালুকদার, চন্দ্রঘোনা দ্যা রাইজিং সান কেজি অ্যান্ড হাই স্কুলের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন রোকন, প্রধান শিক্ষক রবিউল হোসেন মামুন, পটিয়া খলিলুর রহমান ডিগ্রি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক পিন্টু ঘোষ এবং হাটহাজারী ফতেয়াবাদ ঐকতান সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর সভাপতি তড়িৎ কুমার দাশ।
প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বিষয়ে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন—চিত্রাঙ্কনে চিত্রশিল্পী তড়িৎ কুমার দাশ; কণ্ঠসংগীতে বেতার ও টিভি শিল্পী পিন্টু ঘোষ, অনুপ কুমার নন্দী, শিবানী চক্রবর্তী, বনানী শেখর রুদ্র, অভিষেক দাশ ও বাউল জুয়েল দ্বীপ; তবলায় অরুণ নাথ; নৃত্যে সন্দিপন দে এবং আবৃত্তিতে আনন্দ প্রকৃতিবাদী।
আয়োজক কমিটির পরিচালক অভিষেক দাশ জানান, ওস্তাদ মোহনলাল দাশের স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং শিশু-কিশোরদের মধ্যে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠান সহযোগিতায় এবং তবলায় ছিলেন চিত্রশিল্পী সুজিত সুত্রধর, ত্রিদিপ মুৎসুদ্দি, শিবু দাশ, সবুজ সুত্রধর, লিপি দাশ, ফুলু দাশ, উর্মি বনিক, সুদেব বেপারি, নিত্যানন্দ দাশ, অনিন্দ পাল, অর্নিবান দত্ত, শ্রীশান্ত বড়ুয়া।



