কাপ্তাইয়ের শিলছড়ির হাজীরটেক সড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের শিলছড়ির হাজীরটেকে সড়কের পাশে সরকারি খাস জায়গায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারী নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও খাস জায়গায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে রেষ্টুরেন্ট তৈরীর অভিযোগ উঠেছে কাপ্তাই থানার সাবেক ওসি অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির এর বিরুদ্ধে। সরকারের এই খাস জায়গায় স্থাপনা তৈরী করায় চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের ক্ষতির আশংকা রয়েছে। ইতিমধ্যে ভবনের সামনের কিছু অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে।

সরজমিনে গত শনিবার (৯ মে) সকালে ঐ এলাকায় গিয়ে দেখা যায় শিলছড়ি হাজীর টেক বনশ্রী পর্যটন কেন্দ্রের পাশে শ্রমিকরা পুরানো কয়েকটি পিলার ভেঙে নতুন করে রিসোর্ট নির্মাণ করছেন। এসময় শ্রমিকরা বলেন, এখানে নতুন রিসোর্ট তৈরী করা হবে। জায়গাটি কাপ্তাই থানার সাবেক ওসি হুমায়ুন কবির এর। তিনি অনেক বছর আগে বনশ্রী পর্যটন কেন্দ্রের পরিচালক প্রকৌশলী রুবায়েত আক্তার হতে কিনে নিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, ১৬ বছর এখানে কোন স্থাপনা হয় নাই, হঠাৎ এখানে স্থাপনা নির্মাণ করলে কাপ্তাই সড়কের জন্য ঝুঁকি হবে। যেকোনো মুহূর্তে মাটি ভেঙে পড়ে যেতে পারে। এই ভবন নির্মাণের ফলে মুল সড়কের বেশ কিছু স্থানে ছোট ছোট ফাটল দেখা দিয়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুমে এই রাস্তায় বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার, এর স্মারক নং-৫৯০.৩০২,০১৬, ০০০. ০০৪. ২০১০-১৬২৯, তারিখ: ২৮/১১/২০১০ খ্রিঃ এর একটি চিঠির মাধ্যমে বনশ্রী পর্যটন কেন্দ্রের পরিচালক রুবায়েত আক্তার আহম্মেদকে কাপ্তাই উপজেলাধীন ১০০ নং ওয়াঙ্কা মৌজার হাজারীটেক এলাকায় কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের পার্শ্বে কর্ণফুলী নদীর পাড় দখল করে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে সরকারী খাস জায়গায় অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সাথে বাংলাদেশ সরকার এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষীয় ভূমি ও ইমারত (দখল পুনরুদ্ধার) অধ্যাদেশ ১৯৭০ এর ৫(১) উপধারা মোতাবেক জনস্বার্থে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে অবৈধ বহুতল ভবন স্থাপনা অপসারনসহ দখলীয় জায়গা ছেড়ে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হলো। অন্যথায় আপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

NewsDetails_03

এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বনশ্রী পর্যটন কেন্দ্রের পরিচালক প্রকৌশলী রুবায়েত আক্তার আহম্মেদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাঁর একজন স্টাফ বলেন, ২০০৯ সালে জায়গাটি কাপ্তাই থানার সাবেক ওসি হুমায়ুন কবির কিনে নেন, তবে এটা সরকারি খাস জায়গা।

সাবেক ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, আমার এক আত্মীয় এখানে একটি রেষ্টুরেন্ট তৈরী করছে। ২০১৯ সালে তারা জায়গাটিতে রেষ্টুরেন্টে তৈরীর অনুমতি পেয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাঙামাটি সরকারী খাস জায়গাতে অসংখ্য স্থাপনা রয়েছে। কারো কোন অনুমতি নেই, আমরাও করছি।

তিনি বলেন, সরকারী খাস জায়গা উপরে কাপ্তাই সড়কে অনেক রিসোর্ট রয়েছে কারো অনুমতি নেই।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি দেখেছি পুরাতন পিলার ভেঙ্গে ফেলছে। কিন্তু তাতে কী করছে তা আমাদের জানা নেই। তবে সরকারী নিষেধাজ্ঞা থাকলে যারা অভিযোগ করেছে তারা আবারো অভিযোগ করতে পারে। অভিযোগ করলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।

আরও পড়ুন