কৃষি উৎপাদন, পরিবেশ সুরক্ষায় জিও ব্যাগ পেল ৩ হাজার ৬৪ কৃষক পরিবার

থানচি

বান্দরবানের থানচি উপজেলায় ৩ হাজার ৬৪টি পরিবারের মাঝে ১১টি করে জিও ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই জিও ব্যাগ বিতরণ কার্যক্রমের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ ওয়ালিদ হোসেন শুভ উদ্ভোধন করেন।

জিও ব্যাগ (Geo Bag) হলো এক ধরনের বিশেষ শক্ত ও টেকসই ব্যাগ, যা সাধারণত জিও-টেক্সটাইল (Geo-textile) কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয় এবং এর ভেতরে বালি, মাটি বা পাথর ভরে নদীভাঙন রোধ, বাঁধ নির্মাণ ও সড়ক সুরক্ষায় ব্যবহার করা হয় এমন ব্যাগটি বান্দরবানের থানচি উপজেলা কৃষকদের ব্যবহারের জন্য দেয়ার ফলে একটি নতুন বলে মনে করছে কৃষকরা।

অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সহনশীল জীবিকার জন্য সহায়তা” প্রকল্পের আওতায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে স্থানীয় এনজিও সংস্থা বলিপাড়া নারী কল্যাণ সমিতি (বিএনকেএস)। সহযোগিতায় ছিল মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এবং অর্থায়নে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সদর ইউপি চেয়ারম্যান অংপ্রু ম্রো,প্রেস ক্লাবের সভাপতি অনুপম মারমা, বিএনকেএস প্রকল্পে কো-অর্ডিনেটর পেশল চাকমা,টেকনিক্যাল অফিসার হ্লাগ্যউ মারমাসহ কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংরক্ষণ ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিশ্বজিত দাশ গুপ্ত প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

NewsDetails_03

আয়োজকরা জানান,উপজেলা ৪টি ইউনিয়নের মধ্যে থানচি সদরে ৮১৬ কৃষক পরিবার বলীপাড়া ১০৫৪ পরিবার, তিন্দু ৫৮৩ পরিবার, রেমাক্রী ইউনিয়নের ৬১৬ কৃষক পরিবারকে এ সহায়তা দেয়া হবে। এছাড়াও প্রতিটি কৃষককে আদা, সবজি, মরিচ’সহ ৬টি আইটেম বীজ প্রদান করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পাহাড়ি অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশ সুরক্ষায় জিও ব্যাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে পাহাড় ধস প্রতিরোধ, সবজি চাষাবাদ এবং টেকসই জীবিকা উন্নয়নে এসব ব্যাগ ব্যবহার করা হবে।

প্রধান অতিথি কৃষিবিত মো: ওয়ালিদ হোসেন বলেন, পাহাড়ি এলাকার কৃষকদের বিকল্প ও টেকসই কৃষি পদ্ধতিতে উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর। এতে পরিবারগুলোর আয় বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

উপকারভোগী পরিবারগুলো এ সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দাতা সংস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প অব্যাহত থাকবে এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা।

আরও পড়ুন