বান্দরবান–থানচি সড়কে টানা তিন দিন ধরে পরিবহণ সংকটে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ থাকার পর এবার চাঁদের গাড়ি (জিপ) ও মাহেন্দ্র চলাচলও বন্ধ করে দিয়েছেন চালকেরা।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে জিপ ও মাহেন্দ্র চালক সমিতির নেতারা এ সিদ্ধান্ত নেন। এতে বান্দরবান জেলা সদর ও থানচি উপজেলা সদরের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জরুরি কাজসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে দুই দিক থেকে যাতায়াত করতে না পেরে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
চালক সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পর্যটকেরা দলবদ্ধভাবে গাড়ি ভাড়া বা রিজার্ভ করে যাতায়াত করতে পারবেন। তবে পথে ঘাটে স্থানীয় বাসিন্দাদের গাড়িতে তুলে লোকাল যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। ফলে নিয়মিত যাতায়াতের জন্য এসব পরিবহনের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় মানুষ পড়েছেন বিপাকে।
জিপচালক সমিতির লাইনম্যান মো. কামাল বলেন, “পর্যটকেরা দলবদ্ধভাবে গাড়ি রিজার্ভ করে যাতায়াত করতে পারবেন, এতে কোনো বাধা নেই। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের লোকাল যাত্রী হিসেবে গাড়িতে তোলা যাবে না।

থানচি জিপচালক সমিতির সভাপতি মংসিংহ্লা মারমা ও সাধারণ সম্পাদক লোকমান এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, বাস চলাচল বন্ধের বিষয়ে বাসচালক সমিতির সভাপতি মো. খালেদ বলেন, বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। সড়কে একটি পক্ষ তাঁদের কাছে অতিরিক্ত চাঁদা দাবি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। খালেদ বলেন, আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী দাবি করা হলে আমরা দিতে পারতাম। কিন্তু অতিরিক্ত টাকা দাবি করায় আমরা অপারগতা প্রকাশ করেছি।”
বাসচালক জহির উদ্দিন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বেশি হওয়ায় তাঁদের আয় থেকে অতিরিক্ত টাকা দেওয়া কঠিন। তিনি বলেন, “আমাদের সামর্থ্যের বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হলে তা দেওয়া সম্ভব নয়। আমাদের অবস্থাটাও বিবেচনা করতে হবে। সামর্থ্যের মধ্যে দাবি করা হলে আমরা দিতে পারতাম।
বাস, জিপ ও মাহেন্দ্র চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় বান্দরবান ও থানচির মধ্যে নিয়মিত যাতায়াতকারী স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, সরকারি-বেসরকারি কাজসহ জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বান্দরবান, রুমা, রোয়াংছড়ি,থানচি বাস মালিক সমিতি সভাপতি আবদুল শুকুর বলেন, একটি গ্রুপ অতিরিক্ত চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট গ্রুপের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ পরিস্থিতিতে সড়কে স্বাভাবিক যাত্রী পরিবহন কবে চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীর রাজ পুত্র সাচিংপ্রু জেরী আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয়রা।



