রাঙামাটির ইতিহাসে প্রথম পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী, অবশেষে স্বীকৃতি পেল মাঠে ময়দানের লড়ে যাওয়া এক যোদ্ধার দীর্ঘ নীরব সংগ্রাম। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। এর মধ্য দিয়ে রাঙামাটি জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে সূচিত হলো নতুন অধ্যায়—প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিত্বের মর্যাদা পেল জেলা। এর আগে একই মন্ত্রনালয়ের উপ ও প্রতিমন্ত্রীতে আটকে ছিল জেলাটি। এবার ঘোষণার পরপরই পাহাড়জুড়ে উচ্ছ্বাস, শুভেচ্ছা আর প্রত্যাশার ঢেউ।
শহর থেকে প্রত্যন্ত ইউনিয়ন—বিভিন্ন স্থানে আনন্দমিছিল, মিষ্টি বিতরণ ও শুভেচ্ছা সমাবেশের খবর মিলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অভিনন্দনের জোয়ার। অনেকের মন্তব্য—এটি শুধু ব্যক্তি দীপেনের অর্জন নয়; এটি রাঙামাটির সম্মান।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন প্রশ্নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর নীতিকে এখনো অনেকেই ভিত্তি হিসেবে দেখেন। উন্নয়ন, সংলাপ ও আস্থাভিত্তিক সমাধানের যে দর্শন তিনি সামনে এনেছিলেন, তার নেপথ্যে সক্রিয় ছিলেন তাঁর আস্থাভাজন উপদেষ্টা সুবিমল দেওয়ান। পাহাড়ের সংকটকে কেবল নিরাপত্তা ইস্যু হিসেবে নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি তখনই আলোচনায় আসে।
দীপেন দেওয়ান সেই রাজনৈতিক ঐতিহ্যের উত্তরসূরি। শৈশব থেকেই বাবা সুবিমল দেওয়ান এর সঙ্গে পাহাড়ের আনাচে-কানাচে ঘুরে উন্নয়ন-বাস্তবতার পাঠ নিয়েছেন। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের জটিলতা, জাতিগত বৈচিত্র্য ও বঞ্চনার ইতিহাস সম্পর্কে তাঁর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

রাঙামাটি সরকারি কলেজে পড়াশোনা শেষে তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর আইন বিভাগে। পরবর্তীতে ৭ম বিসিএসের মাধ্যমে জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগ দিয়ে প্রায় দুই দশক দায়িত্ব পালন করেন। সহকর্মীদের ভাষায়, তাঁর পরিচয় ছিল ‘নো কম্প্রোমাইজ’—প্রভাব-প্রতিপত্তির কাছে নত না হওয়া এক কর্মকর্তা। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়, বিশেষত ১/১১-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আহবানে তিনি সরকারি পদ ছেড়ে দলীয় দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দলীয় সূত্র বলছে, সে সিদ্ধান্তই তাঁকে তৃণমূল রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করে। মামলা-হামলা, দমন-পীড়নের সময় মাঠ না ছাড়ার কারণে সংগঠনের ভেতরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। তবে রাজনীতির পথচলাটা এতটা মসৃন ছিলনা। নানা অবজ্ঞা, লাঞ্চনা বঞ্চনা সইতে হয়েছে রাজনীতির মাঠে। আপাদমস্তক ভদ্রলোক দীপেন দেওয়ান সবকিছু সয়ে গেছেন নিরবে নিভৃতে। হয়ে উঠেন পাহাড়ের গনমানুষের নেতা তার ফল স্বরুপ সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনে পার্বত্যবাসীর ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে দীর্ঘ ২০ বছর পর এ আসনটি বিএনপিকে উপহার দেন তিনি।



