পোস্টারহীন নতুন ধারার নির্বাচন : আমেজহীন প্রচারণায় পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা
খাগড়াছড়ি-২৯৮ সংসদীয় আসনে বইছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া। তবে এবারের চিত্র চিরাচরিত নির্বাচনের চেয়ে একদমই আলাদা। পাড়া-মহল্লা বা চায়ের দোকানের অলিতে-গলিতে নেই রশিতে ঝোলানো সাদা-কালো পোস্টারের সারি। নির্বাচনী প্রচারণা চললেও পোস্টারহীন এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কেউ দেখছেন আমেজহীন হিসেবে, আবার কেউ সাধুবাদ জানাচ্ছেন পরিবেশ রক্ষার এই নতুন নিয়মকে।
সরেজমিনে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, নির্বাচনী মাঠ অনেকটা পোস্টারশূন্য। কেবল কিছু ফেস্টুন ছাড়া দৃশ্যমান কোনো প্রচার নেই। তবে প্রার্থীরা বসে নেই। দুপুরের পর থেকে পুরো এলাকায় মাইকিংয়ের তৎপরতা কিছুটা বাড়ে। প্রার্থীরা মূলত কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। তারা লিফলেট বিতরণ এবং ব্যক্তিগত আলাপের মাধ্যমে নিজেদের ইশতেহার তুলে ধরছেন।
এ আসনে পুরুষ ভোটার ২,৪৪,৭৪২ জন, মহিলা ভোটারঃ ২,৩১,৩৭৫ জন মোট ভোটার ৪,৭৬,১১৭ জন। ৩ স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ১১ প্রার্থী এ আসনে লড়বেন।
খাগড়াছড়ি-২৯৮ নম্বর সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া (ধানের শীষ), মো. এয়াকুব আলী (দাঁড়িপাল্লা) জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, মো. কাউসার (হাতপাখা) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, উশ্যেপ্রু মারমা (রকেট) বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি, দীনময় রোয়াজা (ট্রাক) গণঅধিকার পরিষদ, মিথিলা রোয়াজা (লাঙল) জাতীয় পার্টি, মো. নুর ইসলাম (আপেল) ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ, মো. মোস্তাফা (হারিকেন) বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, সমিরন দেওয়ান (ফুটবল), জিরুনা ত্রিপুরা (কলস) এবং ধর্মজ্যেতি চাকমা (ঘোড়া)। প্রতীকে লড়াই হবে।
বাড়ির গেট খোলার অপেক্ষায় তরুণরা নিজেদের মধ্যেই অট্টহাসিতে খুনসুটি করেন, গল্প-আড্ডায় সময় কাটান। তাদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি নির্বাচনি পরিবেশকে আরও উৎসবমুখর করে তুলেছে এবং এলাকায় এনে দিয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য।
দৃশ্যমান প্রচার কম থাকলেও তরুণ ভোটারদের মধ্যে উদ্দীপনার কমতি নেই। তারা দল বেঁধে প্রার্থীদের সালাম পৌঁছে দিতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। শীতের রাতে আগুন পোহানোর আড্ডায় কিংবা চায়ের কাপে নির্বাচনী আলোচনা-সমালোচনা এখন খাগড়াছড়ির প্রধান অনুষঙ্গ।
মাটিরাঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কাজী মোহাম্মদ সলিম উল্লাহ বলেন, সাধারণত পোস্টারের মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পোস্টার একদিকে নির্বাচনি সৌন্দর্য নষ্ট করলেও অন্যদিকে ভোটের আমেজ সৃষ্টি করে। এবারের নির্বাচনে পোস্টার না থাকায় প্রচারণা তেমন চোখে পড়ছে না। তবে পোস্টারবিহীন এই উদ্যোগে পরিবেশ রক্ষা হয়েছে। এ জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনের নীতিমালার প্রতি সাধুবাদ জানান।
ভোটার হাফিজ উদ্দিন বলেন, নির্বাচন এলেই সাধারণত ছোট-বড় পোস্টার ও ব্যানারে ছেয়ে যায় চারপাশ। কিন্তু এবারের নির্বাচনে সেই পরিচিত চিত্র দেখা যাচ্ছে না। বিকেলের দিকে শুধু হালকা মাইকের শব্দ শোনা যায় এবং কোথাও কোথাও কিছু ফেস্টুন চোখে পড়ে। তার মতে, পোস্টারবিহীন এই প্রচারণা খুব একটা নজরে আসে না; ফলে আগের মতো দৃশ্যমান নির্বাচনি উত্তেজনাও অনুভূত হচ্ছে না।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এসএম শাহাদাত হোসেন জানান, নির্বাচনী সৌন্দর্য রক্ষার চেয়েও পরিবেশ রক্ষা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। পোস্টারহীন প্রচারণা সেই লক্ষ্যেই একটি বড় পদক্ষেপ।
তিনি আরো বলেন, এবারের নির্বাচনে কমিশন বেশ কিছু বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাইকিং করা যাবে।
কোনো ধরনের পোস্টার লাগানো যাবে না। হেলিকপ্টার বা জীবন্ত প্রাণী ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। পোস্টার নিষিদ্ধ হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারণার অনুমতি রয়েছে।


