বান্দরবান শহরে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এর বাস্তবায়নে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রথমবারেরমত নির্মাণ করা হচ্ছে আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ। এটি তৈরি হলে মৌসুমি কৃষি পণ্য পচনের হাত থেকে রক্ষা পাবে, আর দীর্ঘমেয়াদে ফল ও সবজি সংরক্ষণে এই প্রথম জেলায় কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করাই খুশি স্থানীয় কৃষকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ে উৎপাদিত ফল ও শাকসবজি সঠিকভাবে দীর্ঘসময় প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ করতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবান ইউনিটের বাস্তবায়নে শহরের বাসস্টেশান এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে একটি আধুনিক মানের কোল্ড স্টোরেজ। কোল্ড স্টোরেজটিতে ৫০মেট্রিক টন ফল ফলাদি সংরক্ষণের জন্য ইতিমধ্যে ভবনের কাজ, জেনারেটর স্থাপন, বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপন, কুলিং মেশিনসহ বিভিন্ন কাজ এগিয়ে গেছে এবং দ্রুত সময়ে সকল কাজ সম্পন্ন করে কোল্ড স্টোরেজটি চালু হবে বলে জানান নির্মাণ কাজে যুক্ত সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিবছর সংরক্ষণগারের অভাবে বান্দরবানে উৎপাদিত বিভিন্ন মৌসুমি ফলসহ কৃষিপন্য নষ্ট হওয়ার ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে প্রান্তিক কৃষকরা। কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের ফলে ফসলের পচন কমবে, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি হবে আর কৃষকরা পাবে তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমুল্য।
বান্দরবান সদরের কৃষক আব্দুস সত্তার বলেন, দীর্ঘদিন পর হলেও কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করার ফলে উৎপাদিত কৃষি পণ্য সংরক্ষন করতে পারবো, ফলে কৃষিপণ্যের যথাযথ মূল্যও আমরা পাবো।
আরো জানা গেছে, ১ কোটি ৮৫ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত কোল্ড স্টোরেজটি নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালে আর ২০২৬ সালের মধ্যে এই কাজ সমাপ্ত হবে। দীর্ঘদিন পরে হলেও সরকারী ভাবে জেলা সদরে প্রথমবারেরমত কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণে খুশি চাষী ও বিভিন্ন ফল বিক্রেতারা।
বান্দরবান সদরের আম চাষি লাল পিয়ান বম বলেন, বান্দরবানে প্রচুর রাংগোয়াই আমসহ বিভিন্ন ফলের চাষাবাদ হয়, সংরক্ষন করার সুযোগ পেলে ভালো দাম পাওয়া যাবে।
এই বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মোহাম্মদ ইয়াছির আরাফাত বলেন, ইতোমধ্যে কোল্ড স্টোরেজটির ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে, চালু হলে চাষীরা তাদের ফলফলাদী বিক্রি করে আরো লাভবান হবে।


