বান্দরবানে বীর বিক্রম ইউ কে চিং এর পরিবারের পাশে জেলা প্রশাসন

বান্দরবানের এক বীর সন্তান ইউ কে চিং। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন ‘বীর বিক্রম’ খেতাব। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির মধ্যে তিনিই একমাত্র স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেয়া সম্মান প্রাপ্ত বীর বিক্রম।

‘বীর বিক্রম’ ইউ কে চিং এর মৃত্যুর পর তার পরিবার সম্প্রতি অতি কষ্টে দিনযাপন করছে আর অসহায় হয়ে বান্দরবান সদরে বসবাস করছে এমন সংবাদ বান্দরবানের জেলাপ্রশাসক শামীম আরা রিনি এর কাছে পৌঁছালে তিনি ‘বীর বিক্রম’ ইউ কে চিং এর পরিবারের খোঁজ নিতে থাকেন এবং তার সার্বিক অবস্থা জানতে বান্দরবান সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফা সুলতানা খান হীরামনিকে নির্দেশনা দেন।

এদিকে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা মোতাবেক আজ ২৫মার্চ (বুধবার) বিকেলে বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফা সুলতানা খান হীরামনি সদরের ৯নং ওয়ার্ডের লাঙ্গী পাড়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউ কে চিং এর বাসভবনে যান এবং তার সহধর্মিণী ৭৭বছর বয়সী থুইসানু মারমা ও তার পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করেন।

NewsDetails_03

এসময় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফা সুলতানা খান হীরামনি জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ইউ কে চিং এর সহধর্মিণী থুইসানু মারমার নিকট নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী, ফলফলাদি এবং নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন, এছাড়া ভবিষ্যতেও তাঁর পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।

এদিকে দীর্ঘদিন পরে হলেও জেলাপ্রশাসকের আন্তরিকতায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউ কে চিং এর পরিবারের পাশে প্রশাসনের কর্তাদের দেখে এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পার্বত্য জেলা বান্দরবান থেকে বীর বিক্রম খেতাব প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউ কে চিং। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর বিক্রম খেতাব প্রদান করেছিল। ইপিআরের একজন সদস্য হিসাবে ইউ কে চিং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ৬ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন। ইউ কে চিং ১৯৫২ সালে ইষ্ট পাকিস্তান রাইফেলস্ (ইপিআর) এ যোগ দেন, এবং ১৯৭১সালের ২৫মার্চ নায়েক হিসেবে রংপুর জেলার হাতিবান্ধা বিওপিতে কর্মরত ছিলেন। ১৯৩৩ সালের ১০মে বান্দরবান পার্বত্য জেলার উজানী পাড়ায় জন্ম নেওয়া এই বীর যোদ্ধা ২০১৪সালের ২৫ জুলাই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।

এদিকে মৃত্যুর পর তিনি রেখে যান তার সহধর্মীনী থুইসানু মারমা, দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তান। বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জীবিতকালে বিভিন্ন সহযোগীতা পেলেও ইউ কে চিং এর মৃত্যুর পর তার পরিবার এখন নানান কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করছে।

আরও পড়ুন