রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে কাজু বাদাম চাষে সফলতা
পার্বত্যঞ্চলে কৃষকদের বাতিঘর হিসাবে সু-পরিচিত রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে কাজুবাদাম চাষে সফলতা অর্জন করেছেন এখানকার কৃষি বিজ্ঞানিরা। গবেষণা কেন্দ্রের ২ একর এলাকা জুড়ে এর চাষ করা হয়েছে।
গত সোমবার (১১ মে) সকাল ১০ টায় গবেষণা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি কাজুবাদাম গাছে ফল ধরেছে। যেদিখে চোখ যাই সেদিকে কাজুবাদাম ফল। দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ ক্ষেতে কাজুবাদামের সমাহার।
এসময় কথা হয় রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ জিয়াউর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, ২০১৯ সালে ভিয়েতনাম, ভারত, কম্বোডিয়া এবং বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলা হতে কাজুবাদামের জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করে রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের ২ একর জমিতে রোপণ করা হয়। রোপণের ৩ বছর পর ২০২২ সালে প্রথম ফল ধরে। বর্তমানে গাছ গুলোর বয়স ৭ বছরে পর্দাপন হয়েছে। বর্তমানে আগের তুলনায় বেশি করে ফল ধরছে প্রতিটি কাজুবাদাম গাছে।

তিনি আরোও বলেন, কাজুবাদাম বিশ্বের বাদাম জাতীয় ফসলের মধ্যে প্রথম স্থান দখল করে আছে। এর প্রতিটি গাছে ২০ থেকে ৩০ কেজি ফল পাওয়া যায়। প্রতিটি ফলের ওজন গড়ে ৩০ থেকে ৬০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া প্রতিটি কাজুবাদাম নাটের ওজন ৫ থেকে ১০ গ্রাম হয়ে থাকে।
কাজুবাদামে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমানে আমিষ, চর্বি, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি এবং ভিটামিন সি। কাজুবাদামে প্রচুর পরিমানে ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, পলিফেনল ও ক্যারিটনয়েড আছে, যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ও মস্তিস্কের শক্তি বৃদ্ধি করে। এতে খারাপ কোলেষ্টেরল কমিয়ে ভাল কোলেষ্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে। ব্লাড প্রেসার ও ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে কাজুবাদামের ভূমিকা অপরিসীম।
রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানিরা বলেন, বাংলাদেশের পাহাড়ী অঞ্চলে প্রায় ৫ লাখ হেক্টর জমি অনাবাদী রয়েছে। এর মধ্যে যদি ১ লাখ হেক্টর জমিতে কাজুবাদাম চাষ করা যায় তাহলে ১ লাখ টন কাজুবাদাম উৎপাদন করা সম্ভব। দেশে ভালো মানের কাজুবাদাম উৎপাদন করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রা যেমন সাশ্রয় হবে তেমনি কাজুবাদাম রপ্তানী করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে। এই শিল্পের সাথে জড়িত অনেকের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং বিশেষ করে নারীরা স্বাবলম্বী হতে পারবে।



