সংস্কার করা হলো বান্দরবান–থানচি সড়ক

কমবে ভোগান্তি

বান্দরবান–থানচি সড়কের চিম্বুক পয়েন্ট থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার অংশ দীর্ঘদিন ধরে খানা-খন্দ ও বড় বড় গর্তে ভরে যাওয়ায় পর্যটক, সাধারণ যাত্রী ও যানবাহন চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়ত। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (১৭ ইসিবি) গত জানুয়ারি থেকে মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় আড়াই মাস ধরে সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেছে।

আজ শনিবার (০৭ মার্চ) দুপুরে ১৭ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের ইউনিটের অধিনায়ক ও প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নূর মো. সিদ্দিক সেলিম, পিএসসি সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বান্দরবান–থানচি সড়কের রুমা উপজেলা বাইপাস সড়কের ওয়াই জংশন (সাইরু রিসোর্ট এলাকা) থেকে শুরু করে থানচি উপজেলার ভরতপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ অংশে মেরামত ও সংস্কার কাজ করা হয়েছে। ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীন ১৭ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের তত্ত্বাবধানে এই কাজ পরিচালিত হয়।

দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় গর্ত, ভাঙন ও ঝুঁকিপূর্ণ ঢাল থাকায় যান চলাচলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের ভোগান্তি পোহাতে হতো। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠত।

NewsDetails_03

পর্যটকবাহী জিপচালক মানিক মিয়া বলেন, বর্ষায় গর্তভরা পথে গাড়ি চালাতে গিয়ে চালকদের বড় ধরনের ঝুঁকি নিতে হতো। সামনে ঈদ ও পর্যটন মৌসুমে যাতায়াত বাড়বে উল্লেখ করে তিনি সময়মতো কাজ শেষ করায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

ঢাকার বাসিন্দা বাইকার সাব্বির হাসান জানান, গত নভেম্বরে থানচি ভ্রমণে এসে নীলগিরি পার হয়ে জীবননগরসহ কয়েকটি স্থানে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে গাড়ি চালাতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছিল। এবার এসে তিনি পুরো পথকে অনেক বেশি মসৃণ ও নিরাপদ মনে করেছেন।

এ্যাম্পু পাড়ার বাসিন্দা ইউছুপ ম্রো জানান, স্থানীয়দের অনুরোধে গ্রামের কাছে একটি স্পিডব্রেকার নির্মাণ করেছে সেনাবাহিনী। এতে দ্রুতগতির গাড়ির কারণে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ ছিল তা অনেকটাই কমেছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, পাহাড়ি এ সড়ককে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এর ফলে যানবাহন চালক, যাত্রী ও পর্যটকদের চলাচল আরও সহজ হবে। স্থানীয়দের মতে, সড়কের মানোন্নয়নের ফলে থানচি ও নীলগিরি অভিমুখে পর্যটনের সম্ভাবনা আরও বাড়বে এবং দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও শক্তিশালী হবে।

আরও পড়ুন