করোনায় আক্রান্ত রাঙামাটির খ্যাইনুমং মার্মার আবেগঘন স্ট্যাটাস

রাঙামাটির কাউখালি উপজেলার তারাবুনিয়া এলাকার সন্তান খ্যাইনুমং মার্মা, নারায়নগঞ্জের ডায়াবেটিক সমিতি নার্সিং ইনস্টিটিউট এ কর্মরত । আর সেখানেই চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয় করোনায়। গত ৪ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন তিনি । পাহাড়বার্তা তার স্ট্যাটাসটি তুলে ধরছে।

আমরা স্বাস্থ্য কর্মী বলে বাসায় বসে থাকতে পারিনা। তাই রোগীদের সেবায় যখন জরুরি কাজে রাস্তায় বের হতে বাধ্য হয় তখন মনে হচ্ছে রাস্তার দুই পাশ থেকে লাশের গন্ধ ভেসে আসছে। মনে হচ্ছে, মৃত্যুর খুব কাছাকাছি চলে আসছি। আর যতই পরিবারের মানুষের সাথে কথা বলি ততই কান্না এসে পড়ে। আর এক্স কে খুব মিস করি।
বন্ধু, বড় ভাইদের কথা মনে পড়লে খুব কান্না পায়। মনে হচ্ছে, আর কারও সাথে কোনদিন দেখা হবেনা। আর পরিবারদের কথা মনে পড়লে কান্না থামাতে পারিনা। এক্সের কথাইতো আর বললাম না। এই কষ্টতাই সবসময় পেতে পেতে অভ্যাস হয়ে গেছে।ভিতরে ভিতরে চুপি চুপি রাত্রে যে কতবার কান্না করি, কত রাত যে বালিশ ভিজে,তার কোন গণনা নেই।

সবচাইতে বেশি কষ্ট দেয় সেটা হচ্ছে পরিবার এত কষ্ট করে পরাশোনা করিয়ে এই পর্যন্ত নিয়ে আসল,কিন্তু প্রতিষ্ঠিত হতেই না হতে যদি এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। পরিবার আমার থেকে কত কিছু আশা করে। আর আমি যদি অকালে এভাবে হারিয়ে যায়। তাও আবার এমন একটি পরিস্থিতিতে। যে পরিস্থিতিতে কেউ লাশ দেখারও সুযোগ নেই। কিন্তু যখন সবার সাথে কথা বলি তখন বলি যে, কোন চিন্তা করবেন না,সব ঠিক আছে। আর সব ঠিক হয়ে যাবে। উপরওয়ালা যা করেই ভালোই করেন। ওনি সব ঠিক করে দেবেন।

তিনি আরো লিখেন,করোনার ফ্যাক্ট-(নিজের মনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের অনুভূতি নিয়ে চিন্তা করলাম তাছাড়া হালকা জ্বর শরীর দুর্বল মাথাব্যথা)। পারলে সবাই আমার আমার পরিবার আমার সব কাছের ও প্রিয় মানুষ এবং পৃথিবীর সবার জন্য আশীর্বাদ করবেন। আর সবাই সাবধানে থাকবেন। করোনা ভাইরাসের প্রতিরোধে সরকার যা যা নিয়ম করেছে দয়া করে সবাই সব নিয়ম মেনে চলবেন। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।

খ্যাইনুমং মার্মার আবেগঘন স্ট্যাটাস

আজ রবিবার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে খ্যাইনুমং লিখেন “অবশেষে আমিও করোনার যুদ্ধে হেরে গেলাম। রোগীদের সেবা দিতে দিতে কখন যে নিজেও করোনায় আক্রান্ত হলাম টেরও পেলাম না। বন্দি হলাম করোনার খাচায়, করোনার জালে।
বিঃদ্রঃ- কোভিড-১৯ (পজিটিভ), পারলে সবাই আশীর্বাদ এবং দোয়া করবেন”।

প্রসঙ্গত, তিন পার্বত্য জেলার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে এই প্রথম করোনায় আক্রান্ত হলেন রাঙামাটির খ্যাইনুমং মার্মা।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।