বান্দরবানে সাঙ্গু নদীর চরে বাড়ছে বাদামের চাষ, কৃষকের মুখে হাসি

Bandarban-Badam-Chash-14-january-2016বান্দরবানে সাঙ্গু নদীর চরে বাড়ছে বাদামের চাষ। নদীর এপার-ওপারে বাদাম তোলায় চাষীরা পার করছে ব্যস্ত সময়। কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় চাষীরা ঝুঁকছেন বাদাম চাষের প্রতি।
প্রতি বছর অক্টোবর মাস থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বাদামের বীজ লাগানো হয় । আর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতেই ক্ষেত থেকে এই বাদাম তোলা শুরু । বাদামের বীজ লাগানোর আগে হাল চাষ দিয়ে সামান্য নরম করে দিতে হয় মাটি। আর পরিস্কার করতে হয় আগাছা। তারপর সারি সারি করে লাগানো হয় বাদাম বীজ। মাটি উর্বর তাই দিতে হয় না কোন অতিরিক্ত সার কিংবা কীটনাশক। তিন মাসের মধ্যেই পরিপূর্ন বাদাম ফলে তাই অল্প কষ্টে অধিক লাভে খুশি বাদাম চাষীরা।
বাদাম চাষী আব্দুল মান্নান জানান, কম খরচে অধিক লাভ বাদামে , তাই বাদাম চাষ করি ।
বাদাম চাষী নুুরুল ইসলাম বলেন , বাদাম চাষে আমরা স্বাবলম্বী হয়েছি । নদীর পাড়ে চাষ করে তিন মাসের মধ্যেই বাদাম তুলে বিক্রি করি। আমাদের পরিবারের সকল সদস্য বাদাম লাগানো থেকে তোলা পর্যন্ত এক সাথে কাজ করে।
কৃষি বিভাগ জানায়, গেল বছরে জেলায় ৬১১হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয় আর এবছর বেড়ে চাষ হয়েছে ৬৬৮ হেক্টর জমিতে। সাঙ্গু নদীর চরে দোঁআশ মাটি হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে বাদাম চাষের জনপ্রিয়তা। তাছাড়া প্রতি বছর সাংগু নদীতে বন্যার পানিতে দু কুল উপচে গেলে প্রচুর পলি এসে জমাট বাঁধে, আর এতেই কৃষকেরা বাদাম বীজ বপন করে। পলি মাটা এসে ভরাট হওয়ায় বীজ লাগালে সারের ব্যবহার কম লাগে আর উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় কৃষকেরা করছে অধিক লাভ।
বছরের এই সময় চাষীরা আলু, শীম, কপি চাষ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও কম খরচে অধিক লাভের কারণে বাদাম চাষের প্রতি দিন দিন বাড়ছে কৃষকের সংখ্যা। এক বিঘায় ১৮ কেজি বাদামের চাষ করলে উৎপাদন হয় ৭ থেকে ৮ মণ। আর লাভ বেশি হওয়ায় স্কুলের বন্ধে বাবা মা ও আত্মীয়দের সাথে ক্ষেতে সময় দিচ্ছে অনেকেই ।
বালাঘাটা বিলকিছ বেগম স্কুলের দশম শ্রেনীর ছাত্রী ঝর্ণা বেগম জানান, আমাদের পরিবারের সাথে সময় দিতে প্রায় সময় আমরা বাদাম বাগানে কাজ করি । মা বাবা ভাইয়েরা বাদাম লাগানো ও তোলার কাজ করলে আমরা বোনেরা গরুর খাদ্য হিসেবে বাদামতোলা গাছ গুলো সংগ্রহ করে গরুকে খাওয়াই ।

Bandarban-Badam-Chash-14-january-16বান্দরবানের বাদামের মান ভালো, প্রতি বছর তাই বান্দরবান থেকে বাদাম ক্রয় করে কক্সবাজারের চকরিয়া ও টেকনাফে বিক্রি করে প্রচুর লাভবান হয় ব্যবসায়ীরা। আর বাদাম তোলা শুরু হতেই বাদাম বিক্রেতারা ও হাজির বাদাম ক্ষেতে।
চকরিয়ায় বাদাম ব্যবসায়ী সেলিম বান্দরবান এসেছেন বান্দরবান থেকে বাদাম কিনতে । তিনি জানান, বান্দরবানের বাদামের মান ভালো। বাদাম বিক্রি করে প্রচুর লাভ হয় । প্রতিবছর প্রায় চল্ল্শি থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা লাভ।
চকরিয়ায় বাদাম ব্যবসায়ী মনজুর তিনি জানান, বান্দরবানের বাদাম কিনে আমরা চকরিয়া , ককসবাজার ও টেকনাফে বিক্রি করি।প্রতি বছর বান্দরবান এসে সাংগু নদীর তীরের বাদাম চাষীদের বাদাম আমরা ক্রয় করে নিয়ে যায় দেশের নানা প্রান্তে ।
বান্দরবান কৃষি বিভাগের তথ্যমতে জেলায় ত্রিদানা,ঢাকা-১, ঝিঙ্গা,বারি-৫, ও স্থানীয় জাতের বাদামের চাষ হয়। এদিকে দিন দিন বাদামের চাষ বাড়লে ও কৃষকের জন্য নেই কোন সরকারী সুযোগ-সুবিধা। নেই বীজ ,সার ও ঋনের ব্যবস্থা। নিজের জমানো টাকা অথবা এনজিও সংস্থা থেকে ঋন সংগ্রহ করে কৃষকেরা চাষ করছে এই বাদাম ।
বাদাম চাষী নরুল ইসলাম জানান, বাদাম চাষে কৃষি অফিসের কোন সুযোগ সুবিধা আমরা পায়না , শুধু কৃষি অফিস পরামর্শ দিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ করছে । আমরা এনজিও থেকে লোন করে এই বাদাম চাষ করি। বাদামে লাভ বেশি তাই লোন পরিশোধে তেমন কষ্ট হয়না। নরুল ইসলাম বলেন, বাদাম একটি দরকারী খাদ্য, এই বাদাম চাষে যদি সরকারী সুযোগ সুবিধা থাকতো তবে এই এলাকায় বাদামের উৎপাদন আরো বৃদ্বি পেত ।

বর্তমানে বাদাম চাষে সরকারীভাবে বীজের সরবরাহ ,সার ও আর্থিক সঙ্গতি দেওয়ার কোন সুযোগ নেই ,তবে আগামীতে নতুন প্রকল্পরে মাধ্যমে সহায়তার কথা জানান বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো.আলতাফ হোসেন । তিনি জানান দিন দিন বান্দরবানে বাদাম উৎপাদন বৃদ্বি পাচ্ছে । বাদামের এই উৎপাদন আরো বৃদ্বি করতে আশা করি শ্রীঘ্রই বাদাম চাষে কৃষকদের সরকারী সেবা প্রদান করা হবে।

অল্প সময় ও স্বল্প পুঁজিতে অধিক লাভ হওয়ায় জেলার নদীর তীরবর্তী এলাকায় দিন দিন বাড়ছে বাদাম চাষ ,তাই কৃষকদের প্রত্যাশা কৃষি বিভাগ থেকে উন্নত বীজ ,সার ও ক্ষুদ্র ঋনের ব্যবস্থা করা হলে পার্বত্য এলাকায় বাদামের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।