রাঙামাটিতে ৮ দিন পর পোলট্রি ব্যবসায়ীর দ্বিখন্ডিত লাশ উদ্ধার
স্ত্রীসহ ঘাতক গ্রেপ্তার
রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার কলমপতি ইউনিয়নের মাঝের পাড়া এলাকা থেকে নিখোঁজের আটদিন পর পোলট্রি ব্যবসায়ী মোঃ মামুন (২৫)-এর বস্তাবন্দি দ্বিখন্ডিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত মামুন সুগারমিল আদর্শগ্রাম এলাকার আলী আহমদের একমাত্র সন্তান।
কাউখালী থানার পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মামুনের সাবেক কর্মচারী ও হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত মোঃ কামরুল ইসলাম (৩০)-কে সোমবার লক্ষীপুর জেলার ভবানীগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার সকালে মাঝের পাড়া এলাকার একটি মাটিচাপা দেওয়া গর্ত থেকে মামুনের লাশ উদ্ধার করা হয়। হত্যায় ব্যবহৃত বস্তাসহ অন্যান্য আলামতও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত কামরুল রানীরহাট বাজার এলাকায় স্ত্রী সাথী আক্তার (১৯)-কে নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। মামুনকে ওই বাসায় চায়ের সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অজ্ঞান করে খুন করা হয়। এরপর লাশ দ্বিখন্ডিত করে বস্তায় ভরে কাউখালীতে এনে এক আত্মীয়ের বাড়ির পাশের এলাকায় মাটিচাপা দিয়ে পালিয়ে যান তারা।

এই ঘটনায় মামুনের স্ত্রী সাথী আক্তার ও চেক গ্রহণকারী আনোয়ার (২০) নামের এক যুবককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামুন নিখোঁজের পরদিন তার স্ত্রীর মোবাইল ফোনে ১০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ফোন আসে। এরপর মামুনের স্ত্রী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহেদুল ইসলাম বলেন, “ঘাতক কামরুল নিহত মামুনের সাবেক কর্মচারী হলেও তারা পরবর্তীতে শেয়ারে ব্যবসা করছিলেন। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব থেকেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।”
নিহত মামুনের তিনটি সন্তান রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোক, ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম সোহাগ জানিয়েছেন, মামুন হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। ঘাতক কামরুলকে রিমান্ডে নিতে আদালতে আবেদন জানানো হবে।



