কর অব্যাহতি সুবিধা বহাল রাখতেই কথা বলেছি, পরিচয় বিতর্কে নয় : দীপেন দেওয়ান
জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আয়কর অব্যাহতি সুবিধা বহাল রাখার পক্ষে দেওয়া বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলা সমালোচনা ও বিতর্কের জবাব দিয়েছেন রাঙ্গামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান।
আজ শনিবার (২০ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “কর অব্যাহতি সুবিধা বহাল রাখতেই আমি সংসদে কথা বলেছি, পরিচয় বিতর্কে জড়ানোর জন্য নয়।
তিনি বলেন, গত ১৮ জুন জাতীয় সংসদে বাজেটের অর্থ বিলের ওপর আলোচনায় তিনি তিন পার্বত্য জেলার পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বিদ্যমান আয়কর অব্যাহতি সুবিধা বহাল রাখার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। উপমহাদেশে ১৯২২ সালে প্রবর্তিত আয়কর আইনে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদি পাহাড়িদের (Indigenous Hillman) জন্য যে কর অব্যাহতির বিধান ছিল, তা পরবর্তীতে আয়কর অধ্যাদেশ-১৯৮৪ এবং আয়কর আইন-২০২৩ এর মাধ্যমে বহাল রাখা হয়েছে। কিন্তু চলতি অর্থ বিলে বিদ্যমান সুবিধার কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব আসায় তিনি সংসদে পূর্বের সুবিধা বহাল রাখার সুপারিশ করেন।

সংসদ সদস্য বলেন, তার বক্তব্যে ‘উপজাতি’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা আলোচনা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অর্থ বিলে যে পরিভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী তিনি সেটিই হুবহু ব্যবহার করেছেন। সর্বশেষ আইনে ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ ও ‘উপজাতীয়’ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে এবং তিনি সেই জনগোষ্ঠীর কর অব্যাহতি সুবিধা বহাল রাখার বিষয়েই বক্তব্য দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, “আমার সেদিনের বক্তব্য কোনো জাতিগত পরিচয় নির্ধারণ বা আদিবাসী-উপজাতি বিতর্কের অংশ ছিল না। এটি ছিল জাতীয় বাজেটের অর্থ বিল সংশ্লিষ্ট একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে সংসদীয় আলোচনা।
অপর একটি পক্ষের সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কেউ কেউ অভিযোগ করছেন তিনি শুধু উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থের কথা বলেছেন। কিন্তু অর্থ বিলে শুধুমাত্র তিন পার্বত্য জেলার উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর আয়কর সংক্রান্ত বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকায় তিনি ওই বিষয়েই মতামত দিয়েছেন। অর্থ বিলে পার্বত্য অঞ্চলের বাঙালি জনগোষ্ঠী সম্পর্কে কোনো প্রস্তাব না থাকায় সে বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ ছিল না।
তবে তিনি দাবি করেন, কাপ্তাই হ্রদ থেকে আহরিত মাছ দেশের অন্যান্য স্থানে সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎস কর আরোপ এবং তিন পার্বত্য জেলা থেকে অন্যত্র কাঠ পরিবহনের ওপর উৎস কর আরোপের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে তিনি তা প্রাথমিক পর্যায়েই বাতিল করতে ভূমিকা রেখেছেন। এসব খাতের সঙ্গে জড়িত অধিকাংশ ব্যবসায়ী বাঙালি হওয়ায় এর সুফল মূলত তারাই বেশি ভোগ করবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান বলেন, জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সকল মানুষের ভোটে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন এবং রাঙামাটির সকল জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি এ বিষয়ে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, তার ব্যাখ্যার পর এ নিয়ে সকল ধরনের ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটবে।



