রুমায় কখন কোথায় মৈত্রী পানি বর্ষণ অনুষ্ঠান?

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় শুরু হতে যাচ্ছে মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব “মাহা সাংগ্রাইং পোয়ে’। আগামী ১৩ এপ্রিল নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে পুরনো বছরকে বিদায় দেয়ার মধ্য দিয়ে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি আয়োজন করা হবে। ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ উৎসবকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ঐতিহ্যবাহী “মৈত্রী পানি বর্ষণ” অনুষ্ঠান।

একে অপরের ওপর পানি ছিটানোর মাধ্যমে আনন্দ ভাগাভাগি করা। পুরনো বছরকে বিদায় দিয়ে এবং নতুন বছরকে শুভ ভাবে বরণ করা যায়। এ কারণে বাংলা নববর্ষকে ঘিরে প্রায় সপ্তাহব্যাপী নানা আয়োজনের মাধ্যমে উৎসবটি উদযাপন করা হয়ে থাকে।

কেন্দ্রীয় উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক উক্যসিং মারমা জানান, বিভিন্ন পাড়ার যুব-যুবতীরা তাদের নিজেদের মতো আলাদা আলাদা করে কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় পাড়ার যুবক-যুবতীদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করে এ বছরের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। মৈত্রী পানি বর্ষণ অনুষ্ঠান নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী—১৫ এপ্রিল: ছাইপো পাড়া, পান্তলা পাড়া ও বটতলী পাড়া।

১৬ এপ্রিল: ক্রাউদাং পাড়া ও রুমাচর পাড়া।
১৭ এপ্রিল: পলিকা পাড়া ও হাতিমাথা পাড়া।
১৮ এপ্রিল: বিকেল ৩টায় রুমা সদরের বালুচরে কেন্দ্রীয় ভাবে অনুষ্ঠিত হবে মাহা সাংগ্রাইং পোয়ে’র সমাপনী অনুষ্ঠান।
সোমবার বেলা ১১ টায় (২৩ মার্চ) মারমা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ভবনে কেন্দ্রীয় উৎসব উদযাপন কমিটির আয়োজিত যুবক যুবতীদের এক সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

NewsDetails_03

কেন্দ্রীয় উৎসব উদযাপন কমিটির আহবায়ক ওক্যসিং মারমা এতে সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রমা প্রেসক্লাবের সভাপতি শৈহ্লাচিং মার্মা।

আরো বক্তব্য দেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী উক্যমং মারমা, মংমিন মেম্বার, পিপলু মার্মা, উতিংওয়াং মতি ও উসাইমং মার্মা। সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় উৎসব উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব অংচোওয়াং মার্মা।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, এ সমাপনির দিনে সকল পাড়া থেকে যুবসমাজকে কেন্দ্রীয় মৈত্রী পানি বর্ষণ অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিবছরের মতো এবারও উৎসবকে ঘিরে রুমা উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নানা বয়সের মানুষ, বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা দল বেঁধে অংশ নেবেন এই আনন্দঘন আয়োজনে। মূলত এ মৈত্রী পানি বর্ষণ উৎসব মারমা সম্প্রদায় হলেও অনুষ্ঠানটি আনন্দ উপভোগ ও অংশগ্রহণ করে সকল সম্প্রদায়ের। পরে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের এক মিলন মেলায় পরিণত হয়ে থাকে।

তাই অনুষ্ঠানটির সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে উদযাপন করতে উপজেলা প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনী ও আইন শৃঙ্খলা সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও লোকজন সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন কমিটির সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন