খাগড়াছড়িতে ত্রিমুখী নির্বাচনী লড়াই, এগিয়ে বিএনপি

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে জমে উঠেছে নির্বাচনী আমেজ। পাহাড়ি ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও জাতিগত সংমিশ্রণের কারণে খাগড়াছড়ি–২৯৮ আসনটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এবার এ আসনে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং এক প্রভাবশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে। বর্তমান মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতিতে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি।

আসন পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে দিন-রাত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০০১–২০০৬ মেয়াদে তাঁর সময়কার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে ভোটারদের কাছে সমর্থন চাইছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।

তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির শক্তিশালী ভোটব্যাংক ও ওয়াদুদ ভূইয়ার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবারের নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তিনি পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন একটি মডেল খাগড়াছড়ি গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্ম জ্যোতি চাকমা। পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফের সমর্থন নিয়ে তিনি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায় ও পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি তুলেছেন। দিঘীনালা উপজেলার সাবেক এই চেয়ারম্যান পাহাড়ি নারীদের জন্য কুটির শিল্পের সম্প্রসারণ এবং দুর্গম এলাকায় সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। আঞ্চলিক ভোটের বড় অংশ তাঁর দিকে ঝুঁকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

NewsDetails_03

অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে সংগঠিত ভোটব্যাংক ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে সামনে রেখে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, নৈতিক সমাজ গঠন এবং নারীদের পর্দার মধ্যে রেখে কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার অঙ্গীকার করছেন। পর্যটন শিল্প বিকাশের প্রতিশ্রুতিও তাঁর প্রচারণার অন্যতম অংশ।

খাগড়াছড়ি জেলায় এবার মোট ৫ লাখ ৫৪ হাজার ১১৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও উন্নয়নমুখী খাগড়াছড়ি গড়তে সক্ষম প্রার্থীদের দিকে নজর দিচ্ছেন।

সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা যিনি পাহাড়ের ভূমি সমস্যা সমাধান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন, তাঁকেই তারা নির্বাচিত করবেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন মিথিলা রোয়াজা (জাতীয় পার্টি), সমীরণ দেওয়ান (স্বতন্ত্র) ও জিরুনা ত্রিপুরা (স্বতন্ত্র)। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন, ইনসানিয়াত বিপ্লব ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাত জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপার পৌঁছানোসহ শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

আরও পড়ুন