টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে শত শত পরিবার
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গত সোমবার (৬ জুলাই) রাত থেকে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিপাত আজ মঙ্গলবারও অব্যাহত রয়েছে। টানা বর্ষণে চেঙ্গী ও মাইনী নদীসহ বিভিন্ন খাল-ছড়ার পানি অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুর থেকে খাগড়াছড়ি সদর, মহালছড়ি, মাটিরাঙ্গা, গুইমারা, মানিকছড়ি, পানছড়ি ও দীঘিনালা উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। পাহাড়ি ঢল ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে ইতোমধ্যে বহু ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত জেলার কোথাও পাহাড়ধস বা প্রাণহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি।
দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বেলুন মেকার সুভূতি চাকমা জানান, মঙ্গলবার বেলা ১টা পর্যন্ত আগের ১৮ ঘণ্টায় দীঘিনালায় ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ভারী বর্ষণের কারণে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের কলাবাগান, নুনছড়িবাজার, মোল্লাপাড়া, কৈবল্যপীঠ, আঠারো পরিবার, শালবন ও মোহাম্মদপুর এলাকা এবং দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী ও মেরুং এলাকার নিচু অংশ প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে মাইসছড়ি, মহালছড়ি, মাটিরাঙ্গা, গুইমারা ও মানিকছড়িসহ জেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকা এবং পাহাড়ের ঢালে বসবাসরত শত শত পরিবার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটতে পারে।
দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত এক জরুরি বার্তায় জানান, টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারী মানুষের জানমালের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, জেলা সদরসহ প্রতিটি উপজেলায় পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবক দলও সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।



