নাইক্ষ্যংছড়িতে ধসে গেছে সেতু, দূর্ভোগ চরমে
বান্দরবানের বাইশারী ও কক্সবাজারের ঈদগড় পাহাড়ি জনপদ। বর্ষা এলেই খাল বেয়ে নেমে আসে পাহাড়ি ঢল। সেই ঢলের প্রবল তোড়ে ২০২৪ সালের বন্যায় ধসে পড়ে সেতু। সেতুটি ভেঙে যাওয়ার কারনে মানুষের চলাচল হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের ঈদগড় ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডস্থ চাইঙ্গ বাজার থেকে নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডস্থ মুইঅং পাড়াস্থ এই সংযোগ সেতুটি এখন এলাকাবাসীর আতংকের পথ, যেকোন সময় ঘটতে পারে দূর্ঘটনা। আর এই আতংক নিয়ে বর্তমানে ১০ হাজার মানুষ চলাচল করছে।
বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়ন এবং কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের মানুষ প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পার হচ্ছে। কেউ বাজার করতে যাচ্ছে, কেউ অসুস্থ স্বজনকে নিয়ে ছুটছে হাসপাতালে, কেউ সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দিচ্ছে। শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথ পার হয়ে স্কুলে যাচ্ছে।
মুইঅং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র বাবু মংঞাই মার্মা জানান, প্রতিদিন সকালে স্কুলে যেতে এই ব্রিজ পার হতে হয়। সেতুটি খুব নড়ে, তখন খুব ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে আরও ভয় লাগে, কিন্তু পড়াশোনা না করলে তো সামনে এগোনো যাবে না, তাই ভয় নিয়ে এই সেতু পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পিআইও’র মাধ্যমে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের মাত্র ৯ বছরের মাথায় পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানিতে সেতুটি সম্পূর্ণ ভাবে ধসে পড়ে, দেখা দেয় বড় বড় ফাটল। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও দুই উপজেলার সীমানায় সেতুটি পড়ার কারনে সেতু পুনর্র্নিমাণের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি।
বাইশারী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড মুইঅং পাড়ার বাসিন্দা মংঞাই কারবারি বলেন, এই সেতু ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি, বৃষ্টি হলে তো চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়ে।
ঈদগড় ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড চাইঙ্গ বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. উসমান বলেন, দুই জেলার মাঝখানে হওয়ায় সবাই সেতুটির দায় এড়িয়ে যাচ্ছে, ফলে দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের দূর্ভোগের শেষ নেই।
বাইশারী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আনোয়ার সাদেক বলেন, দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ আর শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, দ্রুত সেতুটি পুনর্র্নিমাণ করা জরুরি।
বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলম (কোম্পানি) বলেন, সেতুটি পুনর্র্নিমাণের প্রয়োজনীয়তা আমরা উপলব্ধি করছি, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি, আমাদের কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়ে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।



