রাঙামাটিতে বৈসাবী ও বাংলা নববর্ষের বর্ণাঢ্য সূচনা
রাঙামাটি-তে বাংলা নববর্ষ ও পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী বৈসাবী উৎসবকে ঘিরে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন। র্যালি, জলকেলি, পাহাড়ি নৃত্য ও পাজন রান্নার প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে সোমবার বিকেলে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে রাঙামাটি সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বের হয় একটি বর্ণাঢ্য র্যালি। এতে পাহাড়ি-বাঙালি সহ বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষ অংশ নিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
উৎসবের উদ্বোধন করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, এমপি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ হাজার বছরের ঐতিহ্যের প্রতীক। এ দেশের সকল সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংস্কৃতি ও উৎসব পালনের অধিকার রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামেও বৈষম্যের কোনো স্থান নেই। বিজু ও বৈসাবী উৎসব পাহাড়ের মিলনমেলা—এ ঐতিহ্য সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

বিশেষ অথিতির বক্তব্যে রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, এ উৎসব কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নয়, এটি সকলের। পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল একরামুল হক রাহাত এবং পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিবসহ সংশ্লিষ্টরা।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বিভিন্ন আয়োজন চলবে। উৎসবে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী পণ্য ও খাবারের স্টল, পাহাড়ি খেলাধুলা এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, যা স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরছে।



