রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোটা বৈষম্য ও অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে ডাকা ৩৬ ঘণ্টার হরতাল প্রত্যাহার করেছে ‘কোটাবিরোধী ঐক্যজোট, সাধারণ শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকবৃন্দ’।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার তার দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেন। এর পরপরই আন্দোলনকারীরা হরতাল প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সড়ক ও নৌপথে শান্তিপূর্ণ হরতাল কর্মসূচি পালন করা হচ্ছিল। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) এ নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান জানান, হরতাল এবং সম্ভাব্য পরিবহন ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি বিবেচনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের আলোকে ৭ শতাংশ কোটা রেখে ৯৩ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের দাবি জানানো হলে, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার আপত্তি জানান। তিনি বলেন, কোনো মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন নয়, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নিজস্ব আইন অনুযায়ী পরিষদ পরিচালিত হবে। এ মন্তব্যের পর এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এছাড়া প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কোটার উল্লেখ না থাকা এবং শূন্যপদের সংখ্যা অস্পষ্ট থাকায় আন্দোলনকারীরা হরতালসহ কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। এ কর্মসূচিকে সমর্থন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ রাঙামাটি জেলা শাখা।
বৃহস্পতিবার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় হরতাল কঠোরভাবে পালিত হয়। রাঙামাটি শহরে যানবাহন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ ও অফিসগামীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এত ব্যাপকভাবে হরতাল পালিত হয়নি।


