চট্টগ্রাম বোর্ডের মেধাতালিকায় ৫৯তম স্থান অর্জন করে জেলার মুখ উজ্জ্বল করলেন নতুন কুঁড়ি ক্যান্টনমেন্ট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। শৈশব থেকেই বইখাতার সঙ্গে গভীর সখ্যতা। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক প্রতিটি ধাপে শ্রেণিকক্ষের প্রথম আসনটি যেন তার জন্যই নির্ধারিত ছিল। সেই ধারাবাহিকতারই এক অনন্য পরিণতি দেখা গেল এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে। খাগড়াছড়ির নতুন কুঁড়ি ক্যান্টনমেন্ট উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী দিশারী চাকমা শুধু নিজের বিদ্যালয় নয়, ছাড়িয়ে গেছেন গোটা খাগড়াছড়ি জেলাকে। ১ হাজার ৩০০ নম্বরের মধ্যে ১ হাজার ২৫১ নম্বর পেয়ে জেলার সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি সে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের মেধাতালিকায় জায়গা করে নিয়েছে ৫৯তম স্থানে।
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার মধুপুর এলাকার বাসিন্দা দিলীপ কুমার চাকমা ও লাভলী চাকমা দম্পতির মেয়ে দিশারী। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত অধ্যবসায়ই তাকে পৌঁছে দিয়েছে সাফল্যের এই শিখরে।
মা লাভলী চাকমার ভাষায়, মেয়েকে কখনও পড়াশোনার জন্য বাড়তি চাপ দিতে হয়নি; নিজের তাগিদেই সে সব সময় পড়াশোনায় মগ্ন থাকত। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও নিয়মিত তত্ত্বাবধানও এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে জানান তিনি।
মেয়ের এই কৃতিত্বে গর্বিত বাবা দিলীপ কুমার চাকমা বলেন, এবার অনেক শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি, সেখানে তার মেয়ে জেলায় প্রথম হয়ে চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫৯তম স্থান অর্জন করায় তিনি সত্যিকার অর্থেই আনন্দিত।

দিশারীর শিক্ষক মো. নাজিমুদ্দিন জানান, শ্রেণিকক্ষে সে কখনও দ্বিতীয় স্থানে নামেনি পড়াশোনায় সব সময় ছিল সবার সামনে। তার এই কৃতিত্বে গর্বিত পুরো শিক্ষক সমাজ, আর তার জন্য রইল উজ্জ্বল ভবিষ্যতের শুভকামনা।
মধুপুর এলাকার বাসিন্দা সৃজনী চাকমাও ভাগ করে নেন সেই গর্বের অনুভূতি। তার কথায়, দিশারীর এই অর্জন শুধু একটি পরিবার বা এলাকার নয়, পুরো জেলার সম্পদ, আর তার জন্য রইল উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কামনা।
স্বপ্ন দেখে আগামীর দিশারী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিবাজী কুমার দে জানান, এবার তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৩০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। দিশারী ছাড়াও ভালো ফল করেছে মানবিক বিভাগের প্রফেসি চাকমা (১১৩৯ নম্বর) ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ফারিয়া তাসনিম (১১৭৩ নম্বর)। তিনি এই সাফল্যের কৃতিত্ব দেন বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের দিকনির্দেশনা, শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, সুশৃঙ্খল পরিবেশ এবং অভিভাবকদের সচেতনতাকে।
খাগড়াছড়ি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র শিকদার জানান, এবার জেলার ৭ হাজার ৭৭৮ জন শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে জেলায় প্রথম হয়েছেন দিশারী চাকমা যা কেবল একটি বিদ্যালয়ের নয়, পুরো খাগড়াছড়ি জেলার জন্যই গর্বের বিষয়।
আজকের এই সাফল্য দিশারীর জীবনের একটি ধাপ মাত্র। তার স্বপ্ন আরও বড় উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করা। পাহাড়ি জনপদের এই মেধাবী কন্যার এই যাত্রা প্রমাণ করে, সঠিক পরিবেশ, পরিবারের সহযোগিতা আর নিরলস অধ্যবসায় থাকলে সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে যাওয়া যায় সাফল্যের শিখরে। দিশারীর এই অর্জন আজ খাগড়াছড়ির শত শত শিক্ষার্থীর কাছে অনুপ্রেরণার আরেক নাম।



