বান্দরবান, দেশের ৩ পার্বত্য জেলার মধ্যে অন্যতম বান্দরবান। আঁকাবাঁকা পথ, উঁচুনীচু সবুজ পাহাড়, মেঘ, নদী, আর ঝর্নার মিলনে গঠিত এই জেলা ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য। বাংলাদেশের ৬৪জেলার মধ্যে অন্যতম পর্যটন জেলা বান্দরবান যেখানে ভ্রমনের জন্য সব উপকরণ বিদ্যমান। বান্দরবানের ৭ উপজেলা, ২টি পৌরসভা আর ৩৪ ইউনিয়নের মধ্যে রয়েছে অসংখ্য পর্যটনস্পট ,আর পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় এখন বান্দরবান সবার আগে।
বান্দরবানে ভ্রমনে পর্যটকরা সহজেই নীলাচল, মেঘলা, গোল্ডেন টেম্পল, শৈলপ্রপাত, প্রান্তিক লেক, চিম্বুক পাহাড়, নীলগিরি, দেবতাখুম, বগালেক, কেওক্রাডং পাহাড়, তমাতুঙ্গী, রাজা পাথর, রেমাক্রি ফলস, মিরিঞ্জা ভ্যালি, আলী সুড়ঙ্গসহ প্রকৃতির বিভিন্ন অপরুপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছে। বান্দরবানের যেখানে যাওয়া হোক না কেন, যে কারোর বিষাদ মনও আনন্দে ভরে ওঠবে মহুর্তে।
ষড়ঋতুর বাংলাদেশে এখানে বিভিন্ন ঋতুর বৈচিত্রে বান্দরবানে বর্ষাকালে একরুপ, গ্রীষ্মকালে এক রুপ আর শীতকালে আরেকরুপ ধারণ করে। আর প্রতি ঋতুতেই বান্দরবান ভ্রমন পর্যটকদের জন্য আনন্দময় ও রোমাঞ্চকর।
এদিকে প্রতিবারেরমত এবারেও ঈদের ছুটিতে পর্যটক বরণে প্রস্তুত পর্যটন নগরী বান্দরবান। জেলার হোটেল, মোটেল, রিসোর্টগুলোকে নতুনরূপে সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। এবারে সার্বিক পরিস্থিতি ভালো থাকায় ঈদের টানা ছুটিতে আশানুরূপ পর্যটকের সমাগম ঘটবে এমনটাই আশা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী। ভালো ব্যবসার প্রত্যাশায় জেলার হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে সাজসজ্জায় চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। কক্ষ সংস্কার, নতুন সাজসজ্জা, পরিচ্ছন্নতা সবকিছুতেই বাড়তি নজর দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। সব মিলিয়ে অতিথিদের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যস্ত সময় পার করছে পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে পর্যটকদের জন্য জেলার হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট গুলোতে ১০-২০শতাংশ ছাড় দেয়ায় পাশাপাশি পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানায় হোটেল মোটেল মালিক সমিতি ও পুলিশের কর্মকর্তারা।

বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো.জসিম উদ্দিন জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে টানা ছুটির কারণে পর্যটকদের ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এরই মধ্যে ২৩-২৪ মার্চ জেলার অধিকাংশ রিসোর্ট ও আবাসিক হোটেলগুলোতে ৮০ থেকে ১০০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। তিনি আরো জানান, পর্যটকরা আমাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আর তাদের ভালো সেবা প্রদান ও সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় আমরা বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সবসময় সচেষ্ট থাকি।
বান্দরবান জীপ, মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি নাছিরুল আলম বলেন, পর্যটকরা কমমুল্যে ও দ্রুত সময়ে বান্দরবানের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে আমাদের গাড়ীগুলো নিয়ে ভ্রমন করতে পারে। তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রতি গাড়ীর চালক একজন দক্ষ গাইড হিসেবে পর্যটকদের সহায়তা করে,আর এতে পর্যটকদের অনেক টাকা সাশ্রয়ের পাশাপাশি পর্যটকরা নিরাপদে সকল পর্যটনস্পট সুন্দরভাবে ভ্রমনের অভিজ্ঞতা অর্জন করে।
বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মান্না দে বলেন, সারাবছরই কমবেশী পর্যটক বান্দরবানে ভ্রমন করে , যেহেতু বান্দরবান একটি পর্যটনজেলা। যেকোন ছুটিতে পর্যটকদের মাত্রা বেড়ে যায় আরো কয়েকগুণ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মান্না দে আরো বলেন, এই ঈদে সার্বিক পরিস্থিতি ভালো থাকায় প্রচুর পর্যটক বান্দরবানে আসবে আর তাদের নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশ একযোগে কাজ করবে।
জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি জানান, বান্দরবানে পর্যটকদের আনন্দময় ও নিরাপদ ভ্রমনের জন্য প্রশাসন সজাগ রয়েছে এবং পর্যটকদের বান্দরবান ভ্রমন করে আরো আনন্দ বাড়ানোর লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের পরিচালিত পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে আরো আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।


