দীর্ঘ ২০ বছর পর বিএনপির হাতে ফিরছে রাজত্ব
রাঙামাটি ২৯৯ আসন
মাঠে বড় কোন দল নেই, নেই আঞ্চলিক দলগুলোর চিরচেনা হাঁকডাক। মাঠে ছোটখটো দলের বিপরীতে দীপেন দেওয়ান একা। যেন এখন থেকেই ২৯৯ নং আসনে মুকুটহীন সম্রাট। অপেক্ষা শুধু সময়ের, অপেক্ষা সম্রাট ঘোষনার দিন তারিখের। এরপরই দীর্ঘ ২০ বছর পর বিএনপি ফিরে পেতে যাচ্ছে রাঙামাটি ২৯৯ আসনের রাজত্ব।
দেশের সবচেয়ে বড় জেলা রাঙামাটি বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের মনোমুগ্ধকর ও বৈচিত্রপুর্ণ এলাকা। পাহাড়, লেক, নদী ও ঘন বন এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য জোগায়, নানা সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাসের পাশাপাশি পাহাড়ী ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর জীবনযাপন, নৃত্য, গান ও উৎসব জেলার ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে ফুটিয়ে তোলে। এ জেলায় একটি মাত্র সংসদীয় আসন। রাজনৈতিক দিক থেকেও রাঙামাটি–২৯৯ আসন দেশের মানচিত্রে এক স্বতন্ত্র অবস্থান ধরে রেখেছে।
ভোটের দিন যতই কাছে আসছে, জেলার প্রতিটি উপজেলায় তৎপর হয়ে উঠেছেন প্রার্থীরা। স্থানীয়দের সঙ্গে সরাসরি মেলামেশা, পথসভা ও দরজায় দরজায় গণসংযোগের মধ্য দিয়ে ভোটারদের মন জয় করতে ব্যস্ত তারা।
বিএনপি এর মধ্যে বিশেষভাবে আগাম জয়ের আশায় নির্ভার ও শঙ্কাহীন প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলের নেতা-কর্মীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন ভোটারদের কাছে তাদের প্রস্তাবনা ও অঙ্গীকার।

ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে রাঙামাটি–২৯৯ বিএনপির জন্য বরাবরই কঠিন আসন। ২০০১ সালে বিএনপি প্রার্থী মণিস্বপন দেওয়ান জয়লাভ করলেও এরশাদ সরকার পতনের পর পরবর্তীতে সিংহভাগ সময়ে আসনটি মূলত আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। ২০১৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী পাহাড়ী সংগঠন জেএসএসের উষাতন তালুকদার এক মেয়াদ জয়ী হলেও স্থায়ী প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। আওয়ামী লীগ ও আঞ্চলিক দলের প্রার্থী অনুপস্থিত থাকায় নির্বাচনী মাঠ একপাক্ষিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিএনপি মনোনীত অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫,০৯,২৬৭ জন, যেখানে পুরুষ ভোটার ২,৬৩,৪১০, নারী ভোটার ২,৪৫,৮৫৫ এবং হিজড়া ভোটার ২ জন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন গণ অধিকার পরিষদের এম এ বাশার, ইসলামি আন্দোলনের মোঃ জসিম উদ্দিন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জুঁই চাকমা, জাতীয় পার্টির অশোক তালুকদার, খেলাফত মজলিসের আবু বক্কর ছিদ্দিক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেলা চাকমা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একপাক্ষিক নির্বাচনী মাঠ, পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এবং আওয়ামী লীগ ও আঞ্চলিক দলের অনুপস্থিতি মিলিয়ে এবার বিএনপির বিজয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। বিভিন্ন জরিপে দীপেন দেওয়ান বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন এবং প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচনী প্রচারণা তুলনামূলক নিরুত্তাপ হলেও ভোটারদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা স্পষ্ট। পরিবর্তনের প্রত্যাশা, আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বের অভাব এবং একপাক্ষিক ভোটের প্রেক্ষাপট—সব মিলিয়ে রাঙামাটির রাজনীতি এখন নতুন মোড়ের দিকে এগোচ্ছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে বিজয়ের মুকুট বিএনপি প্রার্থী দীপেন দেওয়ানের মাথায় উঠতে যাচ্ছে এমনটিই মনে করছেন স্থানীয়রা।



